তারেক খান
দৈনিক
সকালে যখন বেলা উঠি উঠি করে, কইবিলের চাষারা এসে ভিড় জমায় সৈয়দবাড়ির সদর বারান্দায়।
সৈয়দ শাহিদ পোনে এক হাত লম্বা আঙুলের মত চিকন নিমের ডালের মাথা
চাবাতে চাবাতে এসে বসল একটা চেয়ারে। পায়ের ওপর পা তুলে ডালটা আপন মনে চাবাতে লাগল।
আরও তিন চাষা এসে বসল বারান্দার মেঝেতে। শাহিদ প্রথমে কিছু
বলার আগপর্যন্ত তারা নিজেরা ফিসফাস করে। ধানে থোড় এসে গেছে, এরশাদ বোধহয় আর পারল না,
হাসিনা-খালেদা নাকি এক হয়ে গেছে, ইত্যাদি। কিন্তু আজ নিয়ম ভেঙে শাহিদের আগে আচমকা বলে
ওঠে হাঁসের ঠোঁটের মত থুতনিঅলা যুবক সিরাজ, দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি শুকোয় যাবেনে!
শাহিদ কড়াৎ করে তাকায় সিরাজের দিকে। তার দাঁত নিমের ডাল চাবাতে
ভুলে যায় যখন আরেক চাষা এসে বলে, বোরিং ছাড়া আর কোনো উপায় নেই শা ভাই!
শাহিদ মুখ থেকে ম্যাছাকটা বের করে থুথু ফেলল। আকাশের দিকে তাকাল
অন্য অনেক সময়ের মত। অন্যরাও তাকায় সময় অসময়। ভালমত একটু বৃষ্টি হলে যা কাজটা হত না!
আকাশ থেকে চোখ নামিয়ে শাহিদ তার অনেক দিনের প্রক্রিয়াজাত সিদ্ধান্তটা
আচমকা উগরে দিল, সামনের বছর আর ধানের বদলে পানি দিতে পারবে না।
সবাই বোবার মত মুখচাওয়া-চাওয়ি করে আর ভাবে কী বলবে কিন্তু তারা
কিছু বলে ওঠোর আগেই শাহিদ বলল, পুরো টাকাই লগত দিতে হবে পানি নিতে হলে।
সবাই যখন অসহায়ের মত চিন্তা করছে, এক চাষা শাহিদের মুখের দিকে
চেয়ে করুণ মুখে ম্লান হাসে, কয় বছর ধরে তো বেশ চাড্ডে গরম ভাত খাচ্ছিল তারা কিন্তু
সামনের বছর বুঝি তাদের কপাল পুড়ছে।
শাহিদ তাদের একটা উপায় বাতলে দিল, ক্যা, কপাল পোড়বে ক্যা। ছোট
ছোট ম্যাশিন কিনে যার যার মত করলেই তো হয়।
‘হ, তা তো হয়ই। ‘আর আমরা যারা ইন্দুর-বিলেই, ফয়ির-মিচকিন আছি!
আমাগে কী হবেনে, কত্তা?’ বিড়ি খাওয়া খয়েরি দাঁতে হাসে এক প্রৌঢ় চাষা।
শাহিদ বলল, ‘ব্যবস্থা তো আললা একটা করবেনেই, তাই না?’
‘হঅ, যার কেউ নেই তার আললা আছে! ‘হঅ, আললা তো—!’ চাষারা বলাবলি
করে আর ভাবে, তবে আলোচনায়, ভাবনায় বিরক্ত হয়ে অনেকেই, যেমন সিরাজ, যে এখন দিব্যি দেখতে
পাচ্ছে, মেশিনে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আতঙ্কে অস্থির হয়ে বলে উঠল, আগে এ বছরের
ভাবনাটা ভাবেন—।
তার কথা শেষ হবার আগেই শাহিদ তড়াক করে উঠে পড়ল। মটরসাইকেলে
উঠতে উঠতে বলল, পাখিপ্রতি তারা যে বারশ করে টাকা নেয়, এক পাখি জমিতে পানি দিতে খরচ
হয়ে যায় তার চেয়ে অনেক বেশি, প্রায় দুই হাজার অথচ ফলন ভাল না হলে কেউ ধান দেয় না ঠিকমত,
তাহলে এই লুকসান শাহিদ কাটাবে কিবায়।
সে এখন যা খরচ হয় তা লগতে নিয়ে নেবে। পরে লাভ না হয় না হল।
আবার আকাশের দিকে তাকায় সবাই। না, মেঘবৃষ্টির কোনো লক্ষণ নেই।
মটরসাইকেল ভুঁউঁউঁ।
শাহিদ বিলের ধারে মেশিন-ঘরের কাছে গিয়ে থামল। রাস্তার ধারে
নদীর পাড়ে বিপুলকায় সেচযন্তর আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে পানি তুলছে নদী থেকে। একটু দূরে আরেকটা
মেশিন। তারপর আরও। সারেবেসারে মেশিন।
দলে দলে চাষারা এসে শাহিদকে ঘিরে ধরল।
‘কী অবস্থা ধানপানের?’
‘অবস্থা তো ভাল না কত্তা, পানি যা টানতিছে না!’ উদ্বিগ্ন চাষারা
গুঞ্জন করে উঠল।
শাহিদ আলে দাঁড়িয়ে দাঁতে ম্যাছাক ঘষে আর ভুঁই দেখে। সবুজে মোড়ানো
ভুঁই। বিল ভরা সবুজ। ইতিমধ্যেই শিষ এসেছে সব গাছে। শিষে ধরা সবুজ খোসার ভেতরে দুধ আসছে।
কদিন পরেই ফোঁটা ফোঁটা দুধ হবে ট্যাবা ট্যাবা চাল। তারপর সবুজ খোসা হবে হলুদ তুষ।
হলুদ তুষের ভেতর সাদা সাদা চাল হাসির মত। স্বপ্নের মত।
‘কত্তা!’ শিয়েলের মত মুখঅলা এক চাষা বলছিল, অন্যরাও শুরু করল।
শিগগিরি বোরিং করার পরামর্শ সবার মুখে। ‘এমনিতে কনু ভুঁইতে পানি দাঁড়াচ্ছে না! ‘দাঁড়াবে
কী, যা রোদ! ‘দেখেন, কেবল বেলা উঠছে, তাতেই গা জ্বলে যাচ্ছে! ‘হঅ, এ অবস্থায় একদিন
যদি কোনো ভুঁইর পানি শুকোয় যায়, তাহলে তা আর ভেজানো যাবেনানে। ‘আর এখন যদি ভুঁই শুকোয়
যায়, চিটে ছাড়া আর কিছু হবেনানে।’
শাহিদ নদীর দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে চিন্তিত। আশপাশে চরের মাঝখানে
ছোট একটা পুকুর। তার মধ্যে তাদের সেচযন্তর নল বসিয়ে পানি তুলছে।
শাহিদ মটরসাইকেল নিয়ে নদীর ভেতরে নেমে গেল। চাষারাও নামল পাছে
পাছে। পলিবালির চর দিয়ে মটরসাইকেল ভুঁউঁউঁ করে এগোয় আর চাষারা পাছে পাছে দোড়োয়। সিকি
মাইল চলার পর সরু খালের মত নদী। অদূরে দেখা যায় লক্ষ্মীরহাট বাজার। সেদিকে এখনও অনেক
পানি। এখান থেকে খাল কাটতে হবে। দেরি করার সময় নেই। শাহিদ সবাইকে এখনই লেগে যেতে বলল।
আরও বলল, বোরিং করা যাবে না। মাটির নিচের পানির ম্যালা সমস্যা।
চাষারা উড়ামুড়া শুরু করলে শাহিদ তাদের পাখিপ্রতি আধমণ ধান মাফ
করে দিল। যারা খাল কাটবে শুধু তারাই পাবে এ সুযোগ। তার পরও কেউ কেউ উড়ামুড়া করলে বলল,
তার দেবার কথা নদীর পানি। নদীতে পানি না থাকলে সে কী করবে। থাক, মেশিন বন্ধ থাক, ধান
নষ্ট হয়ে যাক।
ধান নষ্ট! চাষাদের বুকের ভেতর হাতুড়ির বাড়ি। শাহিদ তাদের মনে
করিয়ে দিল, দেরি করার সমায় নেই। আজ না পারলেও কালকের মধ্যে শেষ করতে হবে খাল কাটার
পুরো কাজ।
চাষারা দলে দলে ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে এল। মাথায় গামছা পেঁচিয়ে তার
ওপর খ্যাড়ের বিড়ে বেঁধে দিল কান আর থুতনি জড়িয়ে। আর তারা হইচই করে উঠল এক-দুই দিনের
মজুরি ও ধানের দাম তুলনা করে। আধমণ ধানের দাম একশ টাকার কম হবেনানে এ বছর।
শাহিদ ঝনঝনে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, ঘুরে ঘুরে খাল কাটা
দেখে আর তদারক করে। এখানে আরেকটু চাওড়া করতে হবে, এখানে আরেকটু গর্ত হবে, ইত্যাদি বলে
আর ভাবে, তিন হাত গর্ত হলে বরষাকালে পানির নিচে থেকে এক হাত যদি বুজেও যায়, দুই হাত
থাকলে সামনের বছরও কাজ চলে যাবে। তারপর মটরসাইকেলে উঠে বলল, ‘আমি একটু বাড়ির দিকে গেলাম
রে।’ খিদেয় তার পেট চো চো করছে। চাড্ডে খেয়েদেয়ে আসবে বলল।
‘হঅ, কাজ ছাড়া মাহেন্দারগে আর উপায় কী!’ খুশির সুরেই হইচই করে
সবাই চড়া রোদের সাথে পাল্লা দিয়ে।
শাহিদ নদীর কোনায় গিয়ে মটরসাইকেলের গিয়ার পালটে এক নম্বরে আনে
খাড়া ঢাল ধরে ওপরে ওঠার জন্য। ওপরের দিকে চোখ যেতেই খুশি খুশি লাগে তার। উত্তরে মেঘ
জমছে। ভালমত খানিক বৃষ্টি যদি হয়ে যায়! নদীর পাড়ে উঠে বাড়ির দিকে দোড় দিল মটরসাইকেলটা।
দেখতে দেখতে ছায়া নামে। মেঘ বাড়ছে। শাহিদ আরও খুশি হয়। যদিও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় বুকের
কোণে কেঁপে ওঠে।
মটরসাইকেলটা একদোড়ে গিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলে বিনতা দোড়োয় এল।
শাহিদের কানের কাছে মুখ নিয়ে চোখ পিটপিট, ঠোঁট ফিসফিস, ‘তুমি আবার বাবা হবা!’ খুশিতে
ফুরফুরে বিনতা। শাহারিদ হাসে, ‘কবে?’
‘দেরি আছে, কেবল তো শুরু!’ বিনতা মুখ ভরে হাসে। তারপরে বলে,
‘কীরাম ম্যাঘ হইছে! ঝড়বিষ্টি হবে নাকি?’
‘তা হতে পারে। ভালমত একটু বিষ্টিবাদল হলে তো কাজ হত। ছায়াল
কুহানে?’
‘ওই পাশে, আমতলায় আম্মার কাছে আছে।’ বিনতা আবার হাসে, অকারণে,
আর সে আকাশের দিকে চায় শাহিদের মত যখন রাস্তা থেকে মৃদু হইচইয়ে ‘ঝড় আসতিছে’ ভেসে এল।
লোকজন ছুটোছুটি করছে।
শাহিদের মা আজিবন আর গৃহপরিচারিকা কিশোরী রঞ্জিনা বিনতার ছেলেকে
নিয়ে তাড়াহুড়ো করে ঘরে উঠল।
রঞ্জিনা, ‘ও ভাবি, ঝড় হবে মনে হয়!’
‘তাই তো মনে হচ্ছে। আমার বাবু কো, আমার বাবু? এইডে আমার বাবু
নাকি, বাবু?’ হাত বাড়িয়ে দুই বছরের অভিকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিল বিনতা।
‘খিদেয় আমার—!’ শাহিদ বলছিল। বিনতা বলল, ‘তুমারে না কইছি যে
এত বেলা পর্যন্ত না খেয়ে থাকবে না? একটু দেরি কর। মেঘ কাটুক! খেতে বসলে যদি ঝড় শুরু
হয়ে যায়?’
ঘূর্ণিঝড়ের মত উল্লঘুল্ল বাতাস শুরু হয়ে গেল। বিনতা মনে করিয়ে
দিলে শাহিদ তাড়াতাড়ি করে মটরসাইকেলটা বারান্দায় ওঠায়। তারপরে সদর বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল।
গাছপালা সব পাগলের মত হইচই করে হেলতে-দুলতে শুরু করছে। একদল পথিক দোড়োয় এসে বারান্দায়
উঠল। ঘণ্টাখানেক যদি তুমুল বিষ্টি হয় তাহলে অন্তত পাঁচ হাজার টাকার তেল-মবিল বেঁচে
যায় আর ফলনও হয় ভাল! শাহিদ মনে মনে হিসেব কষছিল। আর যদি শিলাবৃষ্টি হয়! কিন্তু শিলাবৃষ্টিকে
শাহিদ প্রশ্রয় দিল না। কখনও অমঙ্গল আশঙ্কা করবে না।
কালো মেঘ গুলিয়ে উঠে আকাশ ঢেকে ফেলল। ঝোড়ো বাতাস আর ছিটেফোঁটা
বৃষ্টি, তার সাথে কুচিকুচি বরফ।
বাতাস কমে এল মিনিটখানেকের মধ্যে। এবার কিঞ্চিৎ বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টি।
পানি তো আললার দান! ইরিখেতে ঐশ্বরিক কৃপা! কুচিকুচি বরফও পানি হয়ে যায়। জামরুলের মত
বরফ-টুকরো কম পড়লে কোনো সমস্যা হবে না। ইরিচাষিরা ভাবে আর আকাশের দিকে চেয়ে থাকে। তাদের
আশঙ্কার মত ঝাঁপিয়ে পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে অসংখ্য জামরুল। আকাশে জামরুল গাছ আছে! লাখে লাখে
জামরুল আছড়ে পড়ছে। প্রতিযোগিতায় মেতেছে।
ছায়াময় আকাশের দিকে অবাক অপলক চেয়ে
চাষাভুষার দল।
মোটে সাড়ে ছয় মিনিট।
গাছপালা আকাশ বাতাস আবার শান্ত। উঠোন বাড়ি পথঘাট বাগান সাদা
সাদা। সবাই ছুটোছুটি করছে। কোথাও যেন আগুন লেগেছে।
মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের কানে কানে ছড়িয়ে পড়ল তিনজনের মৃত্যুর
খবর। আরও তিন-চার জন মরে মরে। মানুষজন সব ছুটছে তো ছুটছেই। হাটের মধ্যে বোমা পড়লে যেমন
হয়। শাহিদ দরজায় দাঁড়িয়ে পাথরমূর্তি। খুব কাছ থেকেই কান্নার রোল ভেসে আসছে। সবাই কান
খাড়া করল। বিনতা ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কাঁপছে। সবাই হঠাৎ লাফিয়ে নেমে দোড় দিল।
লোকজন ছুটছে আর বলছে, ‘পাঁচ-ছয় জন মরেছে শুনলাম! ‘আরও মরবেনে
ছয়-সাত জন! ‘বিলির ধান সব গেছে রে—এ—এ—!’
শাহিদও একদল লোকের সাথে দোড়োতে দোড়োতে বিলের দিকে যাচ্ছে।
‘ম্যালা মানষির অবস্থা খারাপ শুনতিছি!’ কেউ কেউ বলে উঠছে আর ছুটোছুটি করছে, ‘মনু মুললা
মরে গেছে। ‘বেনাবাড়ির একজন মরিছে। ‘শরা কাজির অবস্থা ভাল না শুনতিছি।’
বিল থেকে বাড়ির দিকে দোড় দিতে যারা গড়িমসি করেছিল, শিলাঝড় তাদের
ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিল, প্রচণ্ড রেগে গেছিল।
আম পড়ে বিছিয়ে গেছে গাছতলা। কচিকাঁচারা যেন ভুলে গেছে ডোলা
হাতে আম কুড়োনোর কথা।
শাহিদ অন্যদের মতই দোড়োতে দোড়োতে হাঁপিয়ে যাচ্ছে, তবু দোড়োচ্ছে।
মণ্ডলপাড়া পেরিয়ে যাচ্ছে। বিল থেকে শত শত চাষার কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। বিল ছাপিয়ে
গ্রামের মধ্যে এসে পড়ছে কলজে নিংড়ানো কান্না।
বিলের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। হাউমাউ করে কাঁদছে তো কাঁদছেই।
কেউ তাদের সান্ত্বনাও দিচ্ছে না। ঠাণ্ডা ভুঁই আঁকড়ে ধরে কাঁদছে তো কাঁদছেই। মাসের পর
মাস প্রতিদিন তারা যেন এখানে কোনো কাজ করেনি। কেউ যেন এখানে কোনো দিন লাঙল চষেনি, ভুঁই
প্যাঁক দেয়নি, পাতো লাগায়নি।
মণ মণ ডিজেল-মবিল পুড়িয়ে সেচ দেওয়ার কোনো চিহ্ন পর্যন্ত নেই।
বরফে ঢাকা পড়েছে বিরাট বিলের অনেকাংশ।
শাহিদ অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে পাথরের মূর্তির মত। তারপর পেছন
ফিরে গ্রামের ভেতরে ঢোকে। তেমাথায় গিয়ে দোড় দেয় পুব দিকে যেখানে নলাবিল। তার পায় বল
বেড়ে যায়। দোড় না, সে যেন পাখির মত উড়ে যায় আর অবাক হয়ে ভাবে, যে পানি জীবন দেয় সেই
পানি জমাট বেঁধে কেমন করে জীবন নেয়।
নলাবিলেরও প্রায় অর্ধেক পুরোপুরি শেষ। এখানেও চাষারা তাদের
ভুঁই জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। তারা যেন তাদের ভুঁইর সাথে মিলে যেতে চায় ভেঙে পড়া শিষের মত।
তবে।
এমনটা খুব কমই ঘটে। বহু বছর তারা এমনটা দেখেনি। আগামী বছর নিশ্চয়
ভাল ফলন হবে। শুধু এ বছরটাই যা গেল।
—০—